প্রবেশিকা

শুধায়োনা , কবে কোন্ গান কাহারে করিয়াছিনু দান।
পথের ধূলার পরে পড়ে আছে তারি তরে
যে তাহারে দিতে পারে মান ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,সূচনাঃ মহুয়া কাব্যগ্রন্থ

** এই ব্লগের বানান শুদ্ধ করে পড়ে নেওয়ার দায় পাঠকের **

কেউ কি সাহায্য করতে পারেন?

-ওমর খৈয়ামের ছায়ায়, কান্তিচন্দ্র ঘোষ বা নরেন্দ্র দেব ছাড়াও অনেকেই পথ হেঁটেছেন। ‘ছায়ায়’ বলছি এই হেতু, যে, খৈয়াম বিষয়ে নানাগ্রন্থ পাঠে এই অনুভব ঘটেছে, যে, Edward FitzGerald যে “অনুবাদ” প্রায় সমস্ত বং-খৈয়ামের উৎস, তা’ই নয় যথেষ্ট মূলানুগ – ধরণে এবং ভাবনায়। নিম্নোধৃত কবিতাগুলি আমি পাঠ করি, বাল্যদশায়, একটি তুষার চ্যাটার্জী’কৃত অলংকরণসহ, গ্রন্থে, যা আমার মাতাবিতার বিবাহোপলক্ষে কেউ দিয়েছিলেন উপহার। কিন্তু কবির নামটি মনে আসছেনা কিছুতেই। কেউ কি সাহায্য করতে পারেন?
*
হায় রে গোলাপ, ঝরেপরে যেই বসন্ত নিঃশেষ
থাকেনা যৌব পান্ডুলিপির মদির, অধীর লেশ
তরুশাখে বসে  বুলবুল গায় 
যে গান পত্রপুটে
সে সুর লহরী ভেসেচলে যায় 
কে জানে সে কোন্ দেশ।
 *
আমার সমাধি গহবর ফুঁড়ে প্রোথিত ভষ্মরাশি
বাতাসে ছড়াবে এমনই মদির সৌরভ অবিনাশী
গোঁড়া ধার্মিকও চলতে চলতে
থমকে দাঁড়াবে পথে
অজান্তে তার অধরে ফুটবে
তৃপ্তির মৃদু হাসি।

ওমর খৈয়ামের ছায়ায় কান্তিচন্দ্র ঘোষ

 ওমর খৈয়ামের ছায়ায়  কান্তিচন্দ্র ঘোষ

'ছায়ায়' কেননা নানা আলোচনা, খৈয়াম বিষয়ে, পাঠ করে যা অনুভব করেছি, তা এই, যে, এই রচনাগুলি খৈয়ামের ভঙ্গী এবং অনুভুতিকে ছুঁয়ে যায় কিন্তু হনা তাদের নিপাট দর্পন। কিন্তু বাংলা কবিতা হিসদাবে এগুলি উৎকৃষ্ট।
সবগুলি অনুবাদই নানা স্থান থেকে সংগৃহিত, এখানে, ফলে, কোনো অপর কবির কবিকীর্তিকে যদি এখানে কান্তিচন্দ্র ঘোষের নামে চালিয়ে দিয়ে থাকি তাহলে, পাঠক, চিহ্নিত করতে পারলে, অবশ্যই জানাবেন। শুধরে নেব।


*
সেই নিরালা পাতায় ঘেরা
বনের ধারে সবুজ ছা’য়
খাদ্য কিছু পেয়ালা হাতে
ছন্দ গেঁথে দিনটা যায়
মৌন ভাঙ্গি মোর পাশেতে গুঞ্জে তব মঞ্জু সুর
সেইতো সখী স্বপ্ন আমার সেই বনানী স্বর্গপুর

*
বুনলে বটে খায়াম বুড়ো
জ্ঞান তাঁবুতে অনেক দড়ি
আজ সে তবু মরছে পুড়ে
তপ্ত -অনল কুন্ডে পরি!
জীবন-ডুড়ি ছিন্ন করে
দিয়েছে তার মৃত্যু আসি
ভাগ্য গেছে ছড়িয়ে শিরে
লাঞ্ছনা আর ঘৃণার মসি।

*
রাজ্যসুখের আশায় বৃথা
কেওবা কাটায় বরষা মাস;
স্বর্গসুখের কল্পনাতে
পড়ছে কারুর দীর্ঘশ্বাস ৷
নগদ যা’পাও হাত পেতে নাও,
বাকীর খাতায় শূন্য থাক্ ―
দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে? ―
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক ৷
*
ছকটি আঁকা সৃজন ঘরের
রাত্রী দিবা দুই রঙের,
নিয়ৎ দেবী খেলছে পাশা
মানুষ ঘুঁটি সব ঢঙের;
প'ড়ছে পাশা ধ'রছে পুনঃ,
কাটছে ঘুঁটি, উঠছে ফের—
বাক্সবন্দী সব পুনরায়,
সাঙ্গ হ'লে খেলার জের ৷